• শিরোনাম

    অর্থ মন্ত্রণালয়কে হিসাব দিচ্ছে না মাউশি

    | ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ | ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

    অর্থ মন্ত্রণালয়কে হিসাব দিচ্ছে না মাউশি

    খরচ হয়নি এমপিওর ৬১৪ কোটি টাকা

    অর্থ মন্ত্রণালয়কে হিসাব দিচ্ছে না মাউশি

    ১৪ জানুয়ারি ২০১৮,

    শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বেতনের সরকারি অংশের (এমপিও) অব্যয়িত প্রায় ৬১৪ কোটি টাকার হিসাব পাচ্ছে না অর্থ মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় কোষাগারেও এ টাকা জমা হচ্ছে না। নিয়মবহির্ভূত নিজস্ব হিসাবে (অ্যাকাউন্টে) এ টাকা বছরের পর বছর ধরে রাখছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। প্রায় ১০ মাস আগে অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা ফেরতের নির্দেশ দিলেও তাতে সাড়া দেয়নি মাউশির প্রভাবশালী চক্র। নানা কৌশলে চক্রটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করছে। গত ১০ বছরের মধ্যে ৬১৪ কোটি টাকা গোপনে সরিয়ে ব্যাংকে রেখে লভ্যাংশ খেয়ে আসছে ওই চক্র।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে গত বছরের এপ্রিলে ধরা পড়ে মাউশির কতিপয় কর্মকর্তার এমপিওর টাকা নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড। মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের কয়েক কর্মকর্তা মিলে ওই চক্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এ অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েও পাচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়ার বিষয়টিকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না এই চক্র।

    অর্থ মন্ত্রণালয় ওই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানোর কথা বললেও তা করছে না মাউশি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নের মুখে পড়ে হিসাবের হালনাগাদ জানতে চারটি ব্যাংকে মাউশি গত বছরের এপ্রিলে চিঠি পাঠানোর কথাও জানায়। চিঠির উত্তরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কী হিসাব ও জবাব পেয়েছে, তা আজো মাউশির পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি।

    webnewsdesign.com

    ৬১৪ কোটির টাকার প্রতি বছরে মুনাফা আসে ৩০ কোটি টাকা। মূল টাকা ব্যাংকে পড়ে থাকলেও মুনাফার টাকা কোথায় যায়, এর হদিস নেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারো কাছে। মুনাফার টাকা লুটপাট করেন চক্রের সদস্যরা মিলে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মতিক্রমে সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীর নতুন এমপিওভুক্তির কার্যক্রম চলছে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে। ইতোমধ্যে সংশোধিত এমপিও নীতিমালার খসড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ফলে এমপিও খাতের অব্যয়িত টাকার প্রসঙ্গও অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় আসছে।

    সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বরাদ্দের টাকা খরচ না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ওই টাকা জমা থাকার তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। শিক্ষকদের বেতনের টাকা না দিয়েও টাকা সরিয়ে রাখার তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানায়নি মাউশি। ওই চক্র বিদ্যমান নীতিমালা অমান্য করে গোপনে অনৈতিক এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়। আত্মসাতের উদ্দেশে টাকার তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

    তথ্য মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ওঠে আসা এমপিওর টাকা নিয়ে দুনীর্তির কথা প্রথমে জানানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়কে। বিষয়টির ব্যাখ্যা চেয়ে গত ১২ এপ্রিল মাউশিতে চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের বেতন খাতের টাকা থেকে কোন ব্যাংকে কত টাকা জমা আছে ও লভ্যাংশ কত এসেছে, এসবের বিষয়েও ব্যাখ্যা জানাতে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে তিন কার্য দিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। তবে ১০ মাস কেটে গেলেও অর্থ মন্ত্রণালয়কে ব্যাখ্যা পাঠায়নি মাউশি।

    এছাড়া গত বছরের ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বাজেট বৈঠকে এমপিওর অব্যয়িত টাকা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের তখনকার জ্যেষ্ঠ সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এ টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এ অনিয়মকে গুরুতর ‘ক্রাইম’ (অপরাধ) বলে মন্তব্য করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে অনিয়মের বিষয়টিকে জ্যেষ্ঠ অর্থ সচিব ‘ক্রাইম’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে প্রতিদিনের সংবাদকে নিশ্চিত করেন মাউশির পরিচালক (ফাইন্যান্স এন্ড প্রকিউরমেন্ট উইং) মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

    জানতে চাইলে মাউশির সদ্য সাবেক মহাপরিচালক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি এখন আর দায়িত্বে নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করব না।’ গত বছরের মে মাসে তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন খাতে ব্যাংকে জমা টাকার হিসাব মেলানো হচ্ছে। শিগগিরই জবাব পাঠানো হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে।’

    জানা যায়, গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলেও (২০০১-২০০৬) শিক্ষকদের সরকারি বেতনের টাকা নিয়ে চরম দুর্নীতি চলে। যা ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ধরা পড়ে। তখন জমে থাকা ১০০ কোটি টাকা ফেরতের উদ্যোগও নেওয়া হয়। তবে সরকার পরিবর্তনের পরপর ফাইল চাপা পড়ে যায় সব উদ্যোগ।

    তথ্য মতে, বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার মিলিয়ে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী সরকারের এমপিও সুবিধা পান। এসব শিক্ষকের বেতন ও ভাতা পরিশোধে মাউশিতে প্রতি মাসে টাকা ছাড় করে অর্থ মন্ত্রণালয়। সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী—রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এ চার ব্যাংকের মাধ্যমে এ টাকা দেওয়া হয়। এমপিওভুক্তদের জন্য সরকার প্রতি মাসে ৯৪০ কোটি ৪৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেয়। এ খাতে বছরে খরচ হয় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

    এ মুহূর্তে সারা দেশে এমপিওভুক্তির সব শর্ত পূরণ করে অপেক্ষমাণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা পাঁচ হাজার ২৪২টি। এগুলোয় কর্মরত এমপিওভুক্তির যোগ্য শিক্ষক ও কর্মচারী আছেন অন্তত ৭৫ হাজার। তাদের মধ্যে যোগ্য সবাইকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

    ২০০৯ সালের ১৬ জুন সর্বশেষ নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। এরপর থেকে এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সারা দেশের প্রায় সাড়ে সাত হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বাইরে আছে। এমপিওভুক্তির দাবিতে ‘নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন’ এর ব্যানারে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। পরে অনশন কর্মসূচি চলাকালে ৫ জানুায়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দাবি পূরণের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন শিক্ষকরা।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর